মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭

বোবা ধরা - জ্বিন সিরিজ ৪

আজ বলব বোবা ধরা সম্পর্কে।
পর্ব-০৪

গত পর্বের পর অনেকে বলেছে যে বোবা ধরা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত বলতে। ব্যাপারটা জ্বিন ঘটিত বলাতে অনেকে বলেন এর সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে। তবে আমি বলেছিলাম এর সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যাগুলো ভুক্তভোগীর কিছু অভিজ্ঞতার পরিপন্থী। তাই তুলে ধরতে আজ এই লিখা।প্রথমত বোবা ধরা ব্যাপারটা সম্পর্কে আমার আইডিয়া কম(এখনো অভিজ্ঞতা হয়নি)। তাই আমি শুরুতে চেষ্টা করি ব্যাপারটা নিয়ে একটু রিসার্চ করতে।আর যেহেতু এখানে সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার সাথে তুলনা করা হবে তাই ব্যাপারটা আরো কঠিন। কারণ সায়েন্স এর সাথে লড়ার দক্ষতা আমার নাই।

WIKIPEDIA তে Sleep Paralysis বা SP(বোবা ধরার ইংরেজি) এর সঙ্গা দেওয়া আছে এরকম
Sleep paralysis is a phenomenon in which an individual, either during falling asleep or awakening, temporarily experiences an inability to move, speak, or react.[1]

আর এর তিন প্রকার করা হয়েছে সার্বিক ভাবে।

১.ঘরে অযাচিত কিছুর উপস্থিতি ভয়।

২.ইনকুবাস নামক শয়তানের ভয়।

৩.সংবেদনশীলতা লোপ পাওয়া।

দেখা যাচ্ছে যে তিন প্রকারের দু প্রকারই অদৃশ্যে ভয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত। আবার যদি আমরা সায়েন্টিফিকভাবে এর প্রকারভেদ করি তবে পাওয়া যায় ২ প্রকার।

১.Hypnagogic SP: ঘুম আসার সময় শরীরের স্থিতিশীল হওয়াটা অনুভব করা।
২.Hypnopompic SP: গভীর ঘুমে REM(rapid eye movement)[2]  ও NREM(non-rapid eye movement)[3] সাইকেল এর পরিবর্তন এর ফলে ঘুম ভেঙে যাওয়া। নিজের শরীর নাড়ার ক্ষমতা লোপ পাওয়া।[4]

কিন্তু আমরা যদি ভিক্টিমদের অভিজ্ঞতার দিকে নজর দেই তবে দেখতে পাই ব্যাপারটা শুধু হাত-পা নাড়তে না পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।তারা বুকের উপর কাউকে দেখতে পায়।অনেকে গলা টিপে ধরা হাতের উপস্থিতি বুঝতে পারে এমনকি অনেকের গায়ে দাগও পাওয়া যায়।যেটা নিজে নিজে হওয়া সম্ভব নয় যেখানে ভিক্টিমের হাতও অবশ থাকে। আরেকটি মজার বিষয় হল এটি ঘটার জন্য ঘুমানোও লাগে না।এমন অনেক অভিজ্ঞতা আছে যেখানে ভিক্টিম বসে থাকা অথবা শুয়ে থাকে সম্পূর্ণ সজাগ অবস্থায় আক্রমণ এর শিকার হয়েছে যা সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যার পুরো বিরোধী।আপনারা আরো দেখতে পারেন নেট ঘেটে।
আমি এটা বলতে চাইছি না যে এরকম অভিজ্ঞতার সব জ্বিনেদের মাধ্যমে হয়।তবে এদের মাধ্যমেও যে এটা হতে পারে তা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই।

[1] https://en.m.wikipedia.org/wiki/Sleep_paralysis

[2] https://en.m.wikipedia.org/wiki/Rapid_eye_movement_sleep

[3] https://en.m.wikipedia.org/wiki/Non-rapid_eye_movement_sleep

[4] http://www.webmd.com/sleep-disorders/guide/sleep-paralysis

মুহাম্মদ আরিফ
০৬ অগাস্ট ২০১৬

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৭

ভয় - জ্বিন সিরিজ ৩

আজ নিয়ে এসেছি জ্বিন সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য।
পর্ব -০৩

প্রথম পর্বে আত্না(বাড়িঘরে ঘোরা আত্না) নিয়ে একটু বলেছিলাম।কিন্তু বিষয়টা পরিষ্কার করিনি। খেয়াল করলে দেখবেন মানুষের অভিজ্ঞতা বর্ণনার সময় মানুষ বলে তারা যে আত্নাটা দেখে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। অর্থাৎ এটা Natural Cause এর মৃত্যু ছিল না। একটা মানুষের পেছনে কি পরিমাণ শয়তান লেগে থাকে গুনে শেষ করা যাবে না। যখন কারো মৃত্যু আত্নহত্যায় হয় তখন তার শয়তান সবচেয়ে বেশি সফল হয়। খুন ক্ষেত্রে যার হাতে খুন হয় তার শয়তান সফল হয়।তাই তারা সেই সফলতাকে আর একটু বাড়াতে মৃত ব্যক্তির রূপ নিয়ে মানুষের সামনে আসে। যাতে তাদের ভয় পেয়ে মানুষ নানা অনৈসলামিক কাজ করে।আরেকটা ব্যাপার হল মানুষ দুর্ঘটনাকে ভয় পায়। দেখা যায় যে একটা স্বাভাবিক রাস্তা যেখানে একটা দুর্ঘটনা হল সেখান দিয়ে যেতে মানুষ একটু ভয় পায়। সেটা ভৌতিক নয় সহজাত প্রবণতা। শয়তান এগুলোর ফায়দা নেয়।

আমাদের এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, মৃত্যুর পর পুণ্যবান আত্না ইল্লিন এবং পাপী আত্না সিজ্জিনে অবস্থান করে এবং কেয়ামত পর্যন্ত সেখানে থাকবে।তাহলে এই বিশ্বাস অনুযায়ী মৃতের আত্না অবাধে ঘোরাঘুরি করার সুযোগ নেই।

জ্বিনেদের কথা বললে যেটা অবশ্যই বলতে হয় তা হল "বোবা ধরা"। ধারণা করা হয় যে জ্বিনেদের মধ্যে কিছু জ্বিন আছে যারা কথা বলতে পারে না এবং অন্যান্য জ্বিনেদের মত মানুষের সামনে আসতে পারে না।তাই তারা ঘুমের সময় বেছে নেয় এবং মানুষকে কষ্ট দেয় ঘুমের মধ্যে। ধারণা করা হয় কিছুক্ষণের জন্য এরা মানুষের রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যাতে চোখের কর্নিয়া ব্যতীত শরীরের অন্যান্য অঙ্গ অবশ হয়ে যায়। এরা এদের পছন্দের নির্দিষ্ট কিছু(কারণ সবাই এটার অভিজ্ঞতা পায় না) মানুষের কাছে আসে। ভুক্তভোগী অনেক সময় বুকের উপর কাউকে চড়ে বসতে দেখে অনেক সময় দেখে না।তবে এদের দ্বারা ঘুমের মধ্যে মানুষ মারার রেকর্ড নেই।

সাধারণত আয়াতুল কুর'সি অথবা কুর'আনের কিছু আয়াত পড়লে এরা শরীর ছেড়ে দেয়। তাই ওযু করে ঘুমোতে যাওয়া এবং রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী ডান কাত হয়ে ঘুমোতে যাওয়া উত্তম।

কেউ যদি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পড়ে নেয় তাহলে আল্লাহর কাছ থেকে একজন রক্ষাকারী তাকে সারারাত পাহারা দিবে এবং শয়তান তার কাছে সকাল পর্যন্ত আসতে পারবেনা।
-[সহীহ বুখারী-২৩১১]

আজ এ পর্যন্ত।

মুহাম্মদ আরিফ
০৪ অগাস্ট ২০১৬

জ্বিনে ধরা - জ্বিন সিরিজ ২

জ্বিনদের সম্পর্কে আরো ববলব বলেছিলাম। আজ ২য় পর্ব,

Discovery Channel এর A Haunting অনুষ্ঠানটির ভক্ত ছিলাম অনেক। যেমনটা আমি হরর ফিল্ম এর প্রতি সামান্য আসক্ত। অনুষ্ঠানে দেখতাম কাউকে অশরীরী আক্রমণ করলে চার্চের প্রিস্ট তাকে হিল(HEAL) বা ঝাড়ফুঁক(EXORCISM) করেন বাইবেল থেকে নানা লাইন আউড়ে। তার গায়ে ছিটিয়ে দেন পবিত্র জল(জর্ডান নদীর পানি)। এতে তারা আরোগ্য লাভ করে। ব্যাপারটা আমাকে অনেক ভাবাত। কারণ আমি জানি অশরীরী যারা মানুষকে আক্রমণ করে তারা হল জ্বিন। আর জ্বিন কিভাবে তাদের করাপ্টেড(আমার মতে) ধর্মের রীতি অনুসারে ঝাড়-ফুকে ভয় পাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম শ্রদ্ধেয় এক হাফেজ বড় ভাইকে।
উনি বললেন, জ্বিন দু'ভাবে তাড়ানো যায়।

১. খোদার প্রতি বাধ্য করে,

২. খোদার প্রতি অবাধ্য করে।

এবং ওরা দ্বিতীয়টাই করে।

২নং থেকেই শুরু করব,
লক্ষ্য করলে দেখা যায় জ্বিনদের মধ্যে যারা খারাপ অর্থাৎ যারা শয়তানের দলে যোগ দিয়েছে তারাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষকে আক্রমণ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে তারা চায় যে, কেউ যিশুর(বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম) নাম নিক এবং এতে সে চলে গেলে তারা যিশুর(বা যার নাম নেওয়া হয় তার) মহত্ব বুঝে তার প্রার্থনা করবে। তাই বেশিরভাগ সময় অন্যান্য ধর্মাবলম্বিনী লোকের ঝাড়ফুঁকেও জ্বিন পোষক দেহ ছেড়ে দেয় যদি না তার অন্য কোনো বড় স্বার্থ  থাকে।

আবার শয়তানের প্রিয় বিষয় হল ব্ল্যাক ম্যাজিক। ইসলামী পরিভাষায় যাকে কুফরি-কালাম বলে। এটা এমন একটি বিষয় যার চর্চা করার ফল পৃথিবীতেও পেতে হয় এবং পরকালেও পেতে হবে। এটা হল শয়তানের কাছে সাহায্য চাওয়া যেখানে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া যায় না। পশ্চিমা বিশ্বে এরকম অনেক গোপন সোসাইটি আছে যারা Lucifer(শয়তান পূজারীরা ইবলিস কে লুসিফার বলে) পূজা করে। ব্যাপারটা আমাদের দেশে অতটা জনপ্রিয় না হলেও এর অস্তিত্ব আছে। এমন অনেক ফ্যামিলি আছে যারা এর ক্ষতিকারক দিক বা ব্যাপারটা সম্পর্কে সম্পূর্ণ না জেনেই বিভিন্ন বাবার(যারা বৌদ্দ হিসেবেও পরিচিত গ্রামে-গঞ্জে) কাছে যায় অন্যের ক্ষতি করার জন্য। অথচ তারা আল্লাহ এর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নামাজ - রোজাও করে।

কাউকে জ্বিনে ধরেছে বা আছর করেছে(possess) বলা যাবে তখন, যখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান দ্বারা রোগীর আচরণ ব্যাখ্যা করা যাবে না। এর বিভিন্ন পদ্ধতি আছে যা আপনারা জেনে নিতে পারেন জ্ঞানী ব্যক্তিগণ এর কাছ থেকে। এবং এর চিকিৎসা করতে পারবেন স্রেফ কুর'আন ও হাদীসে জ্ঞানী ব্যক্তিগণ যাদের আরো অভিজ্ঞতা আছে।অর্থাৎ যারা রুকাইয়্যা করতে জানেন। রুকাইয়্যা হল ইসলামিক পদ্ধতিতে Exorcism। এবং এটা অনেক শক্তিশালী।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

মুহাম্মদ আরিফ
৩১ জুলাই ২০১৬