অভিমত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অভিমত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৭

প্রবাসীদের বিয়ে

প্রবাসীদের নাকি আমাদের দেশের মেয়েরা বিয়ে করতে চায় না। আমি আসলে ভিডিওটা (আসলে প্রবাসীদের মেয়েরা কেন বিয়ে করতে চায় না সেটা নিয়ে একটা prank video করে কিছু youtuber) দেখিনি। তবে দেখতেও চাই না। অনেক দিন পর লিখতে বসলাম আবার। দেখি আজ এ ব্যাপারে কি লিখতে পারি।

প্রথমত,
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল আপনি যখন একটা নিউজ পেয়েছেন তখন অবশ্যই এর সোর্স দেখবেন। সেই নিউজ কে প্রকাশ করলো আর এর গুরুত্বই বা কতখানি! এটা আমরা অনেক সময়ই করি যে সস্তা অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোর চকমকে হেডলাইন পড়ে নিউজ লিঙ্কে ক্লিক করি আর সেই সস্তা রিপোর্ট গুলো পড়ি। কাজের কাজ কিছুই হয় না বরং নিউজ পোর্টাল গুলো আমাদের আবেগ নিয়ে খেলা করে আর লাভবান হয় প্রায় সময় (যা হোক এ নিয়ে অন্য একদিন লিখার ইচ্ছা আছে)। এখন আপনাদের উত্তেজিত হওয়া সেই ভিডিওটা কি কোনো পরিচিত মিডিয়ার ধারণ করা? এদের কি তথ্য মন্ত্রণালয় এর নিবন্ধন আছে? হয়ত এসব প্রশ্ন আপনার মনে উকিও দেয়নি। যদি না হয় তবে এ নিয়ে এতো উত্তেজিত হওয়ার কোনো মানেই হয় না।

দ্বিতীয়ত,
আমাদের দেশের মানুষ সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। কিন্তু জানেই না যে কোন বিষয় সবার সাথে শেয়ার করা যাবে এবং কোনটি শেয়ার করার কোনো দরকারই নেই। অনেক মানুষ দেখা যায় এরা এমনভাবে নিজেদের উজার করে দেয় যে সোশাল মিডিয়ার ভারচুয়াল ফ্রেন্ডরা তার পাতিলের খবর পর্যন্ত জানে। আবার কেউ কেউ ছবি দিয়ে দিয়ে নিজেকে মডেল এর পর্যায়ে নিয়ে যায়। আবার কিছু মানুষ আছে যারা গুজব বা অদরকারি সংবাদ ছড়ায়। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজটি করে আবার কেউ কেউ অতি আবেগী হয়ে করে। একটু খেয়াল করলেই কি আমরা বুঝতে পারি না যে এই নিউজটার কোনো মূল্যই নেই কিন্তু আমরা একে যেভাবে পারি শেয়ার করছি। যেন আমরা সবাই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা।

তৃতীয়ত,
আচ্ছা আমাদের দেশের প্রবাসীরা কি চিরজীবন কুমার থাকে? আমি যত প্রবাসী দেখেছি তাদের বিয়ের ব্যাপারে তেমন কোনো সমস্যাই হয় না। কারণ তারা টাকা আয় করে স্বাবলম্বী হলে তারপরেই বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে থাকে এবং প্রতিষ্ঠিত পাত্রের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কোনো ব্যাপারই নয় এ কথা যেকোনো ঘটক বলবেন।
শিক্ষার ব্যাপারে যদি বলি, প্রবাসীরা স্বাভাবিকভাবেই তেমন পড়ালেখা করেন না। কিন্তু তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে আমার মনে হয় না পড়ালেখা তেমন কোনো ফ্যাক্টর হয়। কিছুদিন আগেও এক বিয়ের দাওয়াতে গেলাম যেখানে প্রবাসী স্বামীর চেয়ে তার স্ত্রী অনেক লেখাপড়া করেছে। আচ্ছা তাহলে কি এখনো বলবেন আমাদের দেশের মেয়েরা প্রবাসীদের বিয়ে করতে চায় না?

শেষ করতে চাই,
প্রবাসীদেরও সমস্যা আছে। ওনারা ধোয়া তুলসী পাতা নন। এই পুরো ব্যাপারটা ভাইরাল করার মহান দায়িত্ব তারা কাঁধে তুলে নেন আবার জুতা দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কাউন্টার ভিডিও ও তৈরি করেন। প্রবাসীদের দাম্পত্য জীবনে সমস্যাও বেশি হয় সাধারণত। যাহোক সেটা আলোচ্য বিষয় নয়। কিন্তু আপনি প্রবাসী, দেশের রেমিটেন্স শ্রমিক, দেশের শুভাকাঙ্ক্ষী আপনারও কিছু দায়িত্ব আছে। যেকোনো কিছু ভাইরাল করার মহান দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভেবে দেখবেন এর ফল কি হতে পারে.... আর একটা কথা মনে রাখবেন এক টুকরো ঢাকা যেমন কখনো সারাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। কয়েকটিও তেমন সব মেয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।

মুহাম্মদ আরিফ
২৪ জুলাই ২০১৭

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭

একজন আদর্শ ছাত্রের ময়নাতদন্ত

He is a good student.
সে একজন ভাল ছাত্র(!)।

ভাল ছাত্র/ছাত্রী!
কথাটা শুনলেও আমার কেন যেন হাসি আসে। কারণ ভাল ছাত্র মানেটা কী? সজ্ঞা কী?  কতগুলো A+ এর সমষ্টি! নানা এখন সেটা Golden(!) A+ এর সমষ্টি। একটা ছাত্র PSC, JSC, SSC, HSC তে গোল্ডেন A+ এবং বিভিন্ন সরকারি বৃত্তিধারী, সে হল একজন ভাল বা অদর্শ ছাত্রের রোল মডেল। আমি আসলে এখনো নিশ্চিত নই এত A+ ধারীকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কি উপাধিতে ঘোষিত করেছে বা করবে। তারপর সেই A+ ধারণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে শুরু হবে CGPA এর জন্য লড়াই। যারা 3.5+ রাখতে পারবে শুধু তারাই ভাল ছাত্র। BCS পরীক্ষা দিতে যাবেন তো দেখবেন মেধাবীদের তুলনায় কোটা ও দলীয়দের প্রভাব বেশি।

আচ্ছা বাকি সব ছাত্র বা ছাত্রীরা শিক্ষার্থী জগতের কলঙ্ক? তারা কি জীবনযাপন করতে পারে না? সে কি করে চলে যে পড়ালেখাই করেনি?
ছাত্রসমাজ এর বেশিরভাগ হল অমনোযোগী ছাত্র আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনুযায়ী, আমাদের সমাজের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী। তাহলে তারা কেন পড়াশোনা করে? সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাবীদের জায়গা দেওয়ার পর মেধাহীনদের জন্য কেন এত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়? একটা দেশের সাবেক আমলা এবং মন্ত্রী যখন বলেন যে পিলার ধরে নাড়াচাড়া করলে বহুতল বিল্ডিং ধসে পড়ে তখন আমার মনে হয় আমরা আসলে মগেরমুল্লুকে আছি।

এখানে একজন ছাত্রের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা নেই। বাবা-মা চায় তার সন্তান ডাক্তার হবে তাই তাকে ডাক্তার হতেই হবে। বাবা-মা চায় ইঞ্জিনিয়ার, উকিল বা ফার্মাসিস্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু একজন ছাত্রের নিজের কোনো ইচ্ছে নেই। কেউ যদি লেখক,গায়ক অথবা চিত্রশিল্পী হতে চায় তবে আমরা তাকে বাঁকা চোখে দেখি যেন কোনো ভিন গ্রহ থেকে আগত প্রাণী। মাঝে মাঝে ভাবি সবাই যদি সেরা বিষয়গুলো পড়ার জন্য পাগল হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা, ইতিহাস, চারুকলা, সমাজবিদ্যা, পালি এগুলো কারা পড়ে? তারাও তো আমাদের মত মানুষ।

A+ এর কথা বললে বলতে হবে ঢাকা বোর্ডে চলে যান। সেখানে সব অতিমেধাবী শিক্ষার্থী, যাদের শিক্ষকেরা(সম্মান রেখেই বলছি) পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্ন সমাধান করে দেন। ৮ বোর্ডে ৮ রকম প্রশ্ন কিন্তু A+ এর কোটা ৮০ এর ঘর ছুঁলে তারপরেই পাবেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, সমাপনী পরীক্ষার্থীরা বড়দের কাছে ইন্টারনেটে কিভাবে প্রশ্ন পেতে হয় জিজ্ঞেস করে। JSC, SSC, HSC পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগেরদিন চাতক পাখির মত ফেইসবুকে ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দিকে তাকিয়ে থাকে, এই বুঝি প্রশ্ন এলো।

অনেক A+ ধারীকে চিনি যাদের নিজে থেকে এক পৃষ্টা কিছু লিখতে বললে শুধুই ভুল বানান চোখে পড়বে। কারণ ভাল ছাত্ররা শুধু পাঠ্যবই পড়ে। আমাদের সমাজব্যবস্থা,  যে ছাত্র গল্পের বই পড়ে সে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি যদি নাই জানলাম আমার আশেপাশের মানুষের জীবনব্যাবস্থা কেমন তাহলে আমার জীবনটা থেকেও না থাকার মত।

পরিশেষে,
একজন ছাত্র, তার বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ থাকতে পারে। বিভিন্ন বিষয়ে থাকতে পারে অনাগ্রহ। সব ছাত্রকেই যে ক্লাসের টপার হতে হবে এমনটা কখনোই নয়। সে সময় নেবে তার গতি বেছে নেওয়ার জন্য যেটা তার জন্য ভাল। সেজন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে দিতে হবে সে জ্ঞান। এই সময়ের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা এর চোখে একজন অমনোযোগী ছাত্র হতে পেরে আমি গর্বিত।

বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, আগে একটা সময় ছিল যখন পরীক্ষায় পাশ করতো কম আর ফেল করতো বেশি। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী দেখা যেত কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে তারপরই পাশ করতো। অনেককে SSC পরীক্ষার হলে যেতেই কয়েকবার টেস্ট পরীক্ষা দিতে হোত। তাদের প্রতি আমার অসংখ্য শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকে লিখা শেষ করছি। কারণ তারা চেষ্টা করে অনেক কঠিন পদ্ধতির মধ্যে পাশ করতো।

মুহাম্মদ আরিফ
৪ মে ২০১৭

রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৭

ঈর্ষান্বিত উল্লাস

"যখন নাৎসিরা ইহুদীদের ধরতে এলো তখন আমি তার কোনো প্রতিবাদ করিনি কারণ-
আমি ইহুদী ছিলাম না।

যখন তারা কমিউনিস্টদের ধরতে এলো তখনো আমি কোনো প্রতিবাদ করিনি কারণ-
আমি কমিউনিস্ট ছিলাম না।

যখন তারা ট্রেড-ইউনিয়নিস্টদের ধরতে এলো তখনো আমি তার প্রতিবাদ করিনি কারণ-
আমি ট্রেড ইউনিয়নিস্ট ছিলাম না।

কিন্তু যখন তারা আমাকে ধরতে এলো তখন প্রতিবাদ করার মত কেউ অবশিষ্ট ছিল না।"

এটা জার্মান ধর্ম প্রচারক মার্টিন নিমোলার এর জনপ্রিয় একটি উক্তি। প্রটেস্টান্ট এই প্যাস্টরকে সাত বছর কাটাতে হয়েছিল কারাগারে।
এই কথাটা আজ তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যারা আজ গ্যালারীতে বসে তালি বাজাচ্ছেন আর উল্লাস করছেন শত অন্যায় দেখে। ঈর্ষান্বিত লোকেদের সংখ্যাই বেশি।
কে জানে হয়ত কাল আপনাদের উপরও যে পড়বে না সে ভয়াল থাবা?

পরিশেষে,
অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া রণিরাই আজ শুধু ছাত্র সমাজের গর্ব। বুটের নিচে পৃষ্ঠ হওয়া আল্লাহর কালাম বুকে ধারণকারী মাদ্রাসা ছাত্রটি মৌলবাদী। জেল থেকে পরীক্ষা দিয়ে এ+ পাওয়া ছাত্রটি ছাগু।
এটাই বাস্তবতা...

মুহাম্মদ আরিফ
১০/০৫/২০১৬

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৫

বৈশাখ ও বিবস্ত্র নারী

শালীনতা কী আসলে? এর কি কোন নিয়ম আছে? এক কথায় বলতে গেলে শালীনতা হল আসলে মানুষের দৃষ্টি ভঙ্গি। মানুষের পোষাক-পরিচ্ছেদ, আচার-ব্যাবহার এর সমাজ কর্তৃক সৃষ্ট অলিখিত একটি নিয়ম। এটি আসলে সারা পৃথিবীতে এক নয়। পৃথিবী ব্যাপী এটি ভিন্ন রুপ প্রদর্শন করে। যেমন ধরা যাক আমেরিকা অথবা ইউরোপ এ কোন মহিলা যদি অর্ধ নগ্ন হয়ে হাটে তবে সেটিও তাদের শালীনতা এর স্কেল এ শুদ্ধ। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে তা সম্ভব নয়। আবার যদি আরব দেশগুলোতে যদি কেউ এরকম করে তবে তাকে হয়ত জেলেও যেতে হতে পারে।আবার পুরুষের ক্ষেত্রেও নানা নিয়ম রয়েছে।
  আজ শালীনতা শেখানোর জন্য লিখতে বসিনি। আজ বর্তমান সময়ে সকলের আগ্রহের ঘটনা -টিএসসি কেলেঙ্কারি নিয়ে লিখব। সবাই আসলে খুবই উৎসুক এ ব্যাপারে কিছু বলার জন্য অথবা কারো কাছ থেকে শোনার জন্য। আমাকেও কয়েকজন এ ব্যাপারে আমার অভিমত জানতে চেয়েছে। আমি হেসে একটাই উত্তর দিয়েছিলাম, আমি সেই মেয়ে গুলোর পোষাককে দায়ী করব না। আবার আমি সেই অধম এর সন্তানদেরও দোষারোপ করব না। তাহলে আমরা একটু খুঁড়ে দেখি ব্যাপারটা কাকে আসলে দোষারোপ করা যায়।
     কাউকে দোষ দেওয়ার আগে ঘটনাটার বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবারের মত এবারো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা উৎসব মুখর ছিল। সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ এদিকে সেদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে একদল ছেলে একটু ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়েই জড়ো হয়েছিল। তারা ছিল খুবই সঙ্ঘবদ্ধ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের উত্যক্ত করা। বিশেষ করে যৌন হয়রানি এবং বিবস্ত্র করাই ওদের উদ্দেশ্য ছিল। বলতে গেলে তারা অনেকটা সফল ছিল। গেইট এর দিক থেকে কোন মহিলা বেরিয়ে এলেই তারা আস্তে আস্তে জড়ো হয়ে তাকে তার স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তারপর সবার সামনেই তাকে নানা ভাবে হয়রানি করে। টিএসসি এলাকার সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত লিটন নন্দি এর প্রথম আলোতে বলা বিবরণ এ এর সুন্দর উদাহরণ পাওয়া যায় (প্রথম আলো ২০/০৪/২০১৫)। তিনি কয়েকজন মেয়েকে বাঁচান এতে কিল-ঘুষিতে তার হাত ভেঙে যায়। পুলিশ নির্বাক দর্ষক এর ভূমিকা পালন করে। অনেক মহিলা লাঞ্চিত হয় আবার অনেকে লিটন নন্দির মত কিছু মানুষের কল্যানে বেঁচে যায়। মোটামুটি এই ছিল সেই দিনের ঘটনা।
    শুরুতেই খানিকটা শালীনতার জ্ঞান দিয়েছিলাম। কারনও একটা ছিল। কারন এই ঘটনার পর আমাদের দেশের অনেক লোক মেয়েগুলার পর্দা নিয়ে মন্তব্য করেন বা এখনও করছেন। আবার অনেকে এদের বিরুদ্ধে গিয়ে বলছেন যে পর্দার চেয়ে চোখের লজ্জা জরুরী।  আমার মতে আসলে দুটোই ঠিক। ঠিক তবে আংশিক আবার এ ক্ষেত্রে একেবারেই ঠিক নয়। যারা এসব মন্তব্য করছেন তারা তাৎক্ষণিক উৎপন্ন হওয়া ক্ষোভ থেকে বলছেন। গভীরভাবে ভাবলে অন্য কিছু বেরিয়ে আসবে।
    পহেলা বৈশাখ উৎসব পালন সম্পর্কে আমি সব সময়ি অনিচ্ছুক। আসলে পহেলা বৈশাখ নিয়ে আমার সমস্যা নেই। এর উৎসব পালনের ধরন নিয়ে যত ঝামেলা। যাহোক সেটা আলোচ্য বিষয় নয়। যদি আমি সেইদিনের সেই ছেলেগুলোকে ঢালাউভাবে দোষ দিতে যাই তাতে কিছুটা সমস্যা আছে। ওরা তো আসলে.... কোন অপরাধ করেনি। কারন পুলিশের মুখপাত্রের মতে ঐদিন সেখানে কোন বস্ত্রহরণ এর ঘটনাও ঘটেনি। উপরন্তু জনতা যাদের পুলিশের হাতে দিয়েছিল, বিশেষ(!) সংগঠন এর লোক হওয়ায় পুলিশ তাদের চা-নাস্তা খাইয়ে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছে। আবার যদি আমরা পুলিশের সেই মুখপাত্রকে পাগল বিবেচনা করে ধরে নেই যে সেদিন সেখানে বস্ত্রহরণ এর ঘটনা ঘটেছিল তবুও তাদের দোষ নেই। কৌতূহল জাগছে কি? আচ্ছা যদি কোন বাচ্চা স্কুলে গিয়ে অথবা বাসায় সবার সাথে ভিন দেশী ভাষায় কথা বলে তবে আমরা দোষ দেই ভিনদেশী কার্টুন চ্যানেল এর। কিন্তু বাচ্চাগুলোর অভিভাবক সচেতন হলে তারা আর সেই চ্যানেল দেখতে পারত না। ঠিক একই ভাবে আমাদের বর্তমান অবস্থা থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে তাই সেই ছেলেগুলো শিখছে। সারাদিন তারা যদি শীলাকি জাওয়ানি, সানি লিওন ও পর্ণ মুভি দেখে তবে তাদের কাছ থেকে আপনি ভাল ব্যবহার আশা করাটাই অন্যায়। আর আমরা চাইলেই যেটা করতে পারতাম তা হল সেই সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে রুখতে পারতাম। হায় তা হয়নি। আজ তাই পথেঘাটে শোনা যায় সেই তেরি-মেরি গানগুলো যেখানে মানুষ আগে মনির খান, সুবির নন্দিদের গান গাইত।আবার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে তো এইসব ছেলে তৈরির কারিগর বললে ভুল হবে না। সেখানে বড়ভাইদের কাজ করে দিলে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় গাঞ্জা, হেরোইন, মদ সহ আরো কত উপঢৌকন।  তাই আমি সেই ছেলেগুলোকে দোষ দেই না।
  আবার অনেকে মেয়েগুলোর পোষাক এর ব্যাপারে বলছিলেন। আরে ভাই পোষাক এর কথা বলছেন কেন? ঐ মেয়েগুলো তো আমাদের সমাজে প্রচলিত তথাকথিত শালীনতা(!) মেনেই ছিল। আর পহেলা বৈশাখ এর মত এত বড় জাতীয় উৎসবে যদি ওনারা অংশগ্রহণ না করেন, একটু পান্তা-ইলিশ না খান তবে কি চলে! তারা নারী হয়েছে তো কি হয়েছে? সমান অধিকার ওনাদের আছে। আর ভাই আপনারা যে মহিলাগুলোকে দোষ দিচ্ছেন আপনাদের ভাবা উচিৎ যে ওনারা সেই উৎসবে না আসলে সেই ভাইয়্যারাও আসতেন না। আর ওনারা ভিনদেশী সেই চ্যানেলগুলোতে দেখা যে কাপড়গুলো কিনে থাকেন(কিনে না দিলে তো আবার আত্মহত্যা করতে পারেন) সেগুলোর শো-অফ করার একটা ব্যাপার সেপার আছে। তাই আমি তাদের ও দোষ দেই না।
   তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে আমি দোষ দেই কাকে! কেন আমাদেরকেই। আমরাই তো আমাদের কপালে এই দুর্ভোগ ডেকে এনেছি। আমরাই তো পহেলা বৈশাখের নামে নানা অসামাজিক কাজ করি। আমরাই তো আমাদের মা-বোনদের ঘর থেকে বের হওয়ার পথ দেখাই। আমরাই তো ভিনদেশী কু-সংস্কৃতিতে আসক্ত হয়ে তাদের মত(আসলে হায়েনা ব্যবহার করলে ভাল হত মনে হয়) ছিড়ে-খাবলে খেতে চাই নারী নামের বস্তুগুলোকে। আমাদের মিডিয়াকেও আমি দোষ দেই। তারা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি এর বদলে ধার করা সংস্কৃতি ধারন করতে বলে। আমি দোষ দেশের শাসক সমাজকে। তারা চাইলেই এগুলো অনেক আগেই নজর দিতে পারত।
মিডিয়ার কথা বলতে গেলে একটা কথা মনে পড়ে। একবার আমার এক কাছের বন্ধু সহ এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে বড় বড় বিলবোর্ড এ গ্রামীণ ফোন এর অ্যাড। সেখানে মেয়েদের দেখানো হচ্ছে জিন্স প্যান্ট ও টপস এ। আমি বন্ধুকে বললাম, দেখ ওরা কি করতে চাইছে? সে বলল, তুমি অবাক হচ্ছ কেনো! ঢাকায় মেয়েরা এখন এরকম ড্রেসই পড়ে। আচ্ছা তাহলে আমার কথা হল ঢাকার মাত্র কয়েক হাজার মেয়ে কি বাংলাদেশের সব নারীর প্রতিনিধিত্ব করে? করে না। কিন্তু আমাদের মিডিয়া আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে সেগুলো গ্রহণ করতে। বাধ্য করছে অতি আধুনিক(!) সমাজের সাথে চলার জন্যই কিছু ভিনদেশী সংস্কৃতি গ্রহণ করতে। আর আমরা গোগ্রাসে তা গিলে খাই, হজম করি।
  আজ অনেকে টিএসসি এর এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় করছেন। অনেকে পশু ইতর ইত্যাদি বলে গালি দিচ্ছেন সে ছেলেগুলোকে।  আচ্ছা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তো প্রতিবছর এরকম ঘটনা ঘটে তখন আপনারা কই থাকেন? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এর এক ছাত্র ধর্ষণ এ সেঞ্চুরি করে। আবার তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানজনক চাকরি দেওয়া হয়। তখন আপনি বা আপনারা কোথায় ছিলেন? আমার মনে হয় উঠ পাখির মত মাটিতে মাথা গুজে চুপ করে ছিলেন।
.
.
এ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত এবং লিখার অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য বন্ধু নাতিফ বিল হককে (siam) আন্তরিক ধন্যবাদ।

মুহাম্মদ আরিফ
২৬/০৪/২০১৫

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০১৫

বাংলাদেশের মওকা

    বাংলাদেশ দল কোয়াটার ফাইনাল খেলবে বিশ্বকাপে। প্রতিপক্ষ চিরচেনা ভারত। ভারতকে বাংলাদেশ হারাতে পেরেছে এ পর্যন্ত ৪বার। আর খাতা কলমের হিসেবেও বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে গিয়ে বাংলাদেশ কিছু অসাধারণ খেলা উপহার দিয়েছে। যা অন্যান্য সকল দলের কাছে মাথা ব্যাথার কারন হয়েছে। নার্ভাস ইংলিশদের হারিয়েছে, কিউইদের পায়ে কাঁপন ধরিয়েছে যা এই বিশ্বকাপে অন্তত ওরা অনুভব করেনি। ওপেনাররা জ্বলে উঠতে পারেননি তেমন, তবে মিডল অর্ডার আর লোয়ার অর্ডার এ ব্যাটসম্যানরা ভীষণ ভাল করেছে। ভারতীয় দলের কথা যদি বলি ওরাও অসাধারণ  ফর্মে আছে। এই বিশ্বকাপে খেলা ছয় ম্যাচের সবগুলোতে জিতেছে। প্রায় সব প্লেয়ারই ফর্মে আছে। তাই সবাই ভাবছে ১৯ মার্চের খেলাটা জমবে।
     এই বিশ্বকাপে ভারতীয় মিডিয়ার অন্যতম সেনসেশন হল 'মওকা' অ্যাড। এটি ভারতের বিভিন্ন ম্যাচের সাথে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এগুতে থাকে। প্রথমটি ছিল পাকিস্তানী সমর্থক কে নিয়ে। যার ক্ষোভ হল বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পকিস্তানের কোন ম্যাচ না জেতা। পাকিস্তানী এই সমর্থক কে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে নিয়েই চলতে থাকে এই অ্যাড। যার সর্বশেষ (এখন পর্যন্ত)  সেকুয়াল হল বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ নিয়ে। যা এখনও (১৭.০৩.০১৫) পর্যন্ত টিভিতে দেখানো হয়নি। তবে শুনেছি অনলাইনে পাবলিশ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি অনেক খোঁজ করে দেখলাম কিন্তু কোথাও পেলাম না। কিছু সার্চ অপশন এ যে লিঙ্ক আসে সেখানে বলা হয় এটা মুছে ফেলা হয়েছে। ইউটিউব, স্টার স্পোর্টস এর ওয়েব সাইট কোথাও নেই। কিন্তু হ্যা এটা ছিল। অনেকেই দেখেছে। অনেকেই এটার রিপ্লাই ভিডিও ও বানিয়েছে দেখলাম। আবার অনেকে ভারচুয়াল জগতে এ নিয়ে ঝড় তুলছেন আবার কেউ কেউ চায়ের কাপে। বর্তমান সময়ে এটা সবার চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছ।
     এক লোকের বাসায় কলিং বেল বাজে। দরজা খুলতে যায় বুকে India লিখা এক লোক। দেখে যে বুকে Bangladesh লিখা এক ছেলে এসেছে। সে তাকে মানচিত্রের দিকে দেখায়।  যেখানে লিখা ছিল, India has created Bangladesh। তারপর বাংলাদেশ লিখা লোকটা ইন্ডিয়া লিখা লোকটিকে মাথা নিচু করে প্রনাম করে। মওকা, মওকা।
     এই ছিল সেই মওকা ভিডিও (যদিও আমি দেখিনি, যারা দেখেছে তাদের কাছ থেকে শোনা)। এখন প্রশ্ন হল ওরা এরকম ভিডিও কেন বানালো আবার রিমুভও করলই বা কেন।  কেন ওরা আমাদের ভিত্তি নিয়ে টানাটানি করল। কেন ওরা খেলার বিজ্ঞাপনে রাজনীতি নিয়ে এল! কারন ভারতীয় দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ওরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে নানা মন্তব্য করছে কিন্তু রাস্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ নিয়ে কোন প্রতিবাত করা হয়নি। সাধারণ মানুষ কিছু প্রতিবাদ করলেও কতিপয় বুদ্ধিজীবী(!) নামধারী লোকগুলো ছিল নির্বাক।  কারন ভারতকে তারা অনেক ভালবাসেন,  তাদের এ কথাগুলো সহ্য করতে না পারলে ভালবাসার আর কি মূল্য! তাই নয় কি! আমি রাজনীতিবিদ নই তাই বেশি কিছু বলতে চাই না।
      ভারতের বিভিন্ন গাল-মন্দে আমরা অনেকেই সমালোচনা করেছি আবার অনেকে চুপ করে থেকেছি। যাহোক, তবে আমার মনে হয় না এবার আমাদের এটা নিয়ে তেমন বাড়াবাড়ি করা উচিৎ। কারন ক্রিকেট হল শুধুমাত্র একটা খেলা। এতে রাজনীতি ঢুকানোর কোন দরকার বা এ থেকে কোন ফায়দা আমি দেখি না। ভারত সেই ভুলটি করেছে। অর্থাৎ কাঁদা ছুড়েছে। তাই বলে আমরা কেন আমাদের হাতে নোংড়া লাগাব! হ্যা, অনেকেই বলতে পারেন ওরা আমাদের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করেছে। তো!  আপনারা এতদিন কোথায় ছিলেন! ইতিহাস নয় যখন ওরা আমাদের বর্তমান, ফেলানি কে কাঁটা তারে ঝুলিয়ে রাখে! তিস্তার ন্যায্য হিস্যা দেয় না! ক্রিকেটের কথায় আসি, ভারত বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল। যখন ওরা ইতিহাসে আঘাত করে আমাদের ক্ষুব্ধ করে তোলার চেষ্টা করছে তার মানে ওরা আমাদের ভয় পাচ্ছে। ভারতীয় দল না হলেও মিডিয়া পাচ্ছে। তাই এ কান্ড।
    বাংলাদেশ দলের এ বিশ্বকাপের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কোয়াটার ফাইনালে যাওয়া। যা ইতিমধ্যে পূরণ হয়েছে। এরপর যা কিছুই হবে তাহল উপরি পাওনা। কারন কাপ জয়ের মত দল গঠন করতে আমাদের আরো সময় ও কঠোর পরিশ্রম এর দরকার। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য সফল অন্তত এ বিশ্বকাপে। তাই আমি মনে করি আগামী ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেলেও জাতি তাদের দোষারোপ করবে না। কিন্তু ভারত যদি হেরে যায় বাংলাদেশের কাছে তাদের পস্তাতে হবে। আর ভারত যে পরিমাণ ম্যাচ এক মৌসুমে খেলে থাকে বাংলাদেশ তা তিন বছরে খেলে। তাই পার্থক্য রয়েই যায়।
     অযথা ভারতকে দোষারোপ করে সময় নষ্ট না করি। ওরা আমাদের দলের খেলায় নিতান্তই ভীত। তাই ওদের মিডিয়া চাইছে উত্তেজনা সৃষ্টি করে দিতে। আর এসব ব্যাপারে ছোট করে বলে রাখা ভাল যে অহংকার এর ফল কিন্তু কখনোই ভাল হয় না।
     শুভ কামনা বাংলাদেশ দলের জন্য......

মুহাম্মদ আরিফ
১৭/০৩/০১৫